জালাল আহমদ::
সুলভ থেকে এখন অনেকটা দুর্লভ। ঝাঁকে ঝাঁকে থেকে কমে গিয়ে পৌঁছেছে হাতেগোনা কয়েকটিতে। এভাবে শিকার অব্যাহত থাকলে সেই কয়েকটিও কমে চলে যাবে একেবারে শূন্যের কোঠায়। দেশের অনেক জলাশয়, হাওর-বিলে এখন তাদেও দেখা মেলা ভার। এদের বসতি ধ্বংস এবং শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়ে তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হতে চলেছে।
মিঠাপানির জলাশয়ের এ পাখিটির নাম দেশি মেটেহাঁস। অনেকে আবার পাতিহাঁস নামেও চেনেন। ইংরেজিতে বলে Indian Spot-billed Duck। একসময় বাংলার প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ওদেরই দখলে ছিল। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। সেই জলাভূমিগুলো মানুষের দখলে চলে যাওয়ার পর ওরা হারিয়ে যেতে চলেছে। তার মধ্যে যারা ভাগ্যক্রমে সামান্য সংখ্যায় টিকে রয়েছে ওদের জীবনও সেই কপাল পোড়াদের মতোই। কখন যে শিকারির লোলুপ দৃষ্টি গিলে খাবে তাদের!
দেশি মেটেহাঁসের পুরো দেহে রয়েছে কালচে আভা। মাথা এদের কালচে ধূসর। রয়েছে হলুদ রঙের ছিট। গলা, ঘাড় ও চিবুক হালকা বাদামি। বুকে অসংখ্য বাদামি ছিট। ঠোঁটের ওপরের অংশ কড়া হলুদ। তবে এদের চোখ বেশ সুন্দর! কাজলটানা! এরা আমাদের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখিরা এসে ভীড় করে। বাংলাদেশে যেহেতু ওরা আশংকজনকহারে কমে যাচ্ছে। তাই শীতকাল ছাড়া দলে দলে আর তাদের দেখা যায় না।
পাখি গবেষক ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের ট্রেজারার ওমর শাহাদাত জানান, দেশি মেটেহাঁস বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। দেশের সব জলাভূমিতে একসময় এদেও দেখা পাওয়া গেলেও এখন সেভাবে আর নেই ওরা। প্রায়ই এদের ডিম ও ছানা চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। স্থানীয় কৃষক, জেলে ও কিছু দুষ্ট ছেলের দল এদের ডিম চুরি করে থাকে। ওরা ডিম চুরি করে এনে খেয়ে থাকে নয়তো ঘরের পালা হাঁসের ডিমের সাথে ডিম ফোটানোর চেষ্টা করে। প্রজনন সংকটসহ রয়েছে জলাভূমিসংলগ্ন তার আবাসস্থল ধ্বংস। এ কারণেই ওরা আজ নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে।
ডিম ফোটানো সম্পর্কে তিনি বলেন, গৃহপালিত হাঁসের ডিমের সাথে দেশি মেটেহাঁসের ডিম ফোটানোর চেষ্টা করে অনেকে সফলও হয়। বুনোহাঁস তার চিরায়ত স্বভাবের কারণে একটু বড় হলেই উড়ে চলে যায়। কিন্তু মুক্তি মেলে না সহজে। কারণ অভিভাবকহীন ছানা, তাই প্রাকৃতিক শত্রুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষার কৌশল যে একেবারেই অজানা তাদের!
পাখি গবেষক ওমর শাহাদাত আরও জানান, ছেলে ও মেয়ে হাঁসের চেহারায় বিশেষ পার্থক্য নেই। দৈর্ঘ্য ৬০ সে.মি। এদের ওজন প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে লতাপাতা এবং অমেরুদ-ি প্রাণি। জুলাই-অক্টোবর মাসের প্রজনন ঋতুতে পানির কাছে মাটিতে লতা-পাতায় ঘাস, আগাছা ও পালকের বাসা করে সাত-নয়টি সবুজে ও সাদায় মেশানো ডিম পাড়ে। মেয়ে হাঁস একাই ডিমে ওম দেয়। ২২ বা ২৪ দিনে ডিম ফোটে। ছেলে ও মেয়ে হাঁস উভয়ে মিলে ছানা পাহারা দেয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন