ডেইলি সিলেট নিউজ:: সিলেটের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের জানাযা আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে পাশ্ববর্তী করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১১টায় আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মরদেহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।
আজ বুধবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে নগরীর সাগরদিঘীরপাড়স্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জহির সুফিয়ান। (ইন্নালিল্লাহি…রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। নিঃসন্তান সুফিয়ান চৌধুরী মৃত্যুকালে স্ত্রী ও অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান বেশ কয়েক মাস থেকে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভূগছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্য থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। গত কয়েকদিন থেকে তার অবস্থার অবনতি ঘটছিল।
সুফিয়ান চৌধুরী ২০১১ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সিলেট শাখার সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, সমাজসেবক এবং সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান-এর মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অর্থমন্ত্রীর শোক : শোকবার্তায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি গভীর শোক জানিয়ে বলেন, আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মত সৎ, বিনয়ী ও সরল চরিত্রের মানুষ এ যুগে বিরল। সিলেটের প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তার মৃত্যুতে সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ হবার নয়।
মন্ত্রী তার বিদ্রেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর শোক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার শোক বার্তায় বলেন, আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ছিলেন আজীবন সংগ্রামী এক জননেতা। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন সিলেট আওয়ামীলীগ পরিবারের অভিভাবক- পাশাপাশি সিলেট এর আপমর জনতার কাছে পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন- ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কারাগারে ছিলেন তখন আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান সিলেট-এর আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তিনি। কোন লোভ, প্রলোভন তাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্ছুত করতে পারেননি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে তিনি কাজ করে গেছেন। এজন্য তাঁকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান-কে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অভিভাবক উল্লেখ করে বলেন- আমার চলার পথে সুফিয়ান ভাই সমর্থন, পরামর্শ ও সাহস যুগিয়েছেন। তা আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবো। তাঁর মৃত্যুতে আমি এবং সিলেটবাসী হারিয়েছি আমাদের অকৃত্রিম হৃদয়ের অভিভাবককে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে- আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে তাঁর মতো নেতার বড় বেশি প্রয়োজন ছিল। তাঁর অভাব কোনদিন পূরণ হবার নয়।
এছাড়া সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন, সদস্য সচিব বদরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ও ব্যক্তি তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
এদিকে, আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত সিলেট বিভাগীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন