উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় এ পর্যন্ত ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে চার জন বন্দুকধারী। তবে এতে কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হওয়ার আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা বাহিনী। নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। খবর ডন, এনডিটিভি, এএফপি, রয়টার্সের।
বুধবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয় প্রদেশের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার ছাত্র এবং ছয়শ’ অতিথি অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনও গোলাগুলি চলছে এবং দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ দল ঘিরে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর সেনাদের সঙ্গে জঙ্গিদের থেমে থেমে লড়াই চলছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পেশোয়ার থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে পাখতুনখাওয়া প্রদেশের চরসাদ্দা এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় মিডিয়ার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বন্দুকধারীরা শ্রেণীকক্ষ ও হোস্টেলে থাকা ছাত্র এবং শিক্ষকদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রহরী এবং দুজন বেসামরিক ব্যক্তি। অন্যদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তবে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ছিল না।
এদিকে, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সাঈদ ওয়াজির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, তিনজন বন্দুকধারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রবেশ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে অভিযান শুরু করেছে, যাতে ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করা যায়। এখনও সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিতরা জানিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী জঙ্গি হামলায় আহত হয়েছেন।
এ হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওমর মনসুর তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, তারাই এই আক্রমণ চালিয়েছে।
এর আগে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে তালেবানের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। সে সময় সন্ত্রাসবাদবিরোধী পরিকল্পনার আওতায় কয়েকশ সন্দেহভাজন জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় দেশটির আদালত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন