শীর্ষ সংবাদ

শাবির ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের

sust-u_95002শাবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘটনার’ বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইলেন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মুল্যাবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক পরিষদ’। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি উত্থাপন করেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী এই শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক অ্যধাপক ড. সাজেদুল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিভিন্ন সময় ভিসিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের পদ্ধতি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ রকম পরিস্থিতি যাতে বারবার ফিরে না আসে তার জন্য একটি পূর্ণ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।
শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টাতা সম্পর্কে ড. সাজেদুল করিম জানান, শিক্ষকদের আন্দোলনে কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হবার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদেরকে সম্পৃক্ত করা বা হতে দেয়া আমরা বেআইনি বলে মনে করি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রকৃতপক্ষে উপাচার্য কিংবা আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষে নই। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা কার্যক্রম চলুক। কোনভাবো তা যেন ব্যাহত না হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে।
গত ৩০ আগস্ট সংগঠিত ‘ঘটনা’র বিষয়ে সাজেদুল করিম জানান, আমরা তদন্তনাধীন কোন বিষয়ে মন্তব্য করব না।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক কামাল আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক গোলাম আলী হায়দার, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের মাঝে ‘শাবিপ্রবিতে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং আমাদের বক্তব্য’ শীর্ষক একটি প্রেসনোট আকারে বক্তব্য বিলি করা হয়। প্রেসনোটটি পাঠকের সুবিধার্থে নিয়ে হুবহু ছাপানো হলো –
শাবিপ্রবিতে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং আমাদের বক্তব্য : দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে, এবং এই সঙ্কটের ফলে সবার মাঝে অস্বাভাবিক অস্থিরতা বিরাজ করছে যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সঙ্কট যেহেতু আমাদের তাই সমাধানের পথও আমাদেরকেই বের করতে হবে, এই উপলব্ধি থেকে এবং বিভিন্ন মিডিয়া এবং সচেতনমহলের জিজ্ঞাসার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বক্তব্য থাকা দরকার বলে আমরা মনে করি। সঙ্কটের প্রেক্ষাপটসহ ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত ঘটনা (সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ) এবং আমাদের উদ্বেগ ও বক্তব্য উপস্থাপন করাছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি একটি জরুরী সভা আহ্বান করে, উক্ত সভায় গিয়ে আমরা জানতে পারি, স্পেসসংক্রান্ত বিষয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষকের (পদার্থবিজ্ঞান, ট্রিপল-ই, এবং ভূগোল বিভাগের) সাথে ভিসি মহোদয় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরে সভায় যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা সকল শিক্ষকের সাথে আমরাও যথাযথ মনে করেছি। কিন্তু কয়েক দিন পরে, গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে প্রশাসনিক বিভিন্ন পদের শিক্ষকেরা ভিসি মহোদয়ের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন শুরু করেন এবং সকল প্রশাসনিক পদ হতে পদত্যাগের হুমকী প্রদান করেন; এমতাবস্থায় আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দের কাছে ভিসি মহোদয় দুঃখপ্রকাশ করার পরেও তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দাখিল করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। কিছুদিন পর পারিবারিক কারণে ভিসি মহোদয় দুই মাসের ছুটিতে যান, এবং ছুটিশেষে যখন তিনি কাজে যোগদান করতে আসেন তখনই আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ ভিসি-ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এতে একাডেমিক কার্যক্রমসহ শিক্ষক/কর্মকর্তাদের প্রমোশন/আপগ্রেডেশন এবং যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকা- ব্যাহত হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ প্রথমে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সাথে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠক করে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত একটি অস্বাক্ষরিত প্রেসনোট পত্র-মারফত প্রচার করেন। কার্যত ঐ প্রেসনোট আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম (ক্লাস পরীক্ষা ব্যতিত) বন্ধের জন্য সরকারের পরিপত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যার ফলে, বন্ধ হয়ে যায় আভ্যন্তরীণ কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন/প্রমোশন সংক্রান্ত সকল বাছাই বোর্ডের সভা, উচ্চতর ডিগ্রীসংক্রান্ত বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ-এর সভা, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভা। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত অনেকজনের উচ্চতর (এম.এস, এমফিল, পি.এইচ.ডি) ডিগ্রী, কারো বা প্রমোশন/ আপগ্রেডেশন বন্ধ হয়ে যায় এবং বিশেষ করে যে সকল ছাত্রের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়া পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই, তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে নিপতিত হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয় এবং নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় বা মেনে চলতে বাধ্য করায় ঐ সকল প্রশাসনিক পদে কোন শিক্ষককে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয় নি। এ কারণে ছাত্র/ ছাত্রীদেরকে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়েছে, অনাকাক্সিক্ষত বিভিন্ন ধরনের অঘটন ঘটার আশংকা দেখা দেয়, ছাত্র/ ছাত্রীদের দায়িত্বশীলতা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের গেটে লাগানো তালা খুলে দিলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিশেষ করে বিপদগ্রস্থ ছাত্র/ছাত্রীর ভাগ্যে তালা লাগানোই থাকে। আজ আমরা নির্দ্বিধায় বলব স্মরণকালের ইতিহাসে এমন সাংঘাতিক (আইনসম্মত নয় এমন) পরিপত্র এবং তার ব্যাপক অবিবেচনাপ্রসূত প্রয়োগ আর কোথাও দেখা যায়নি এবং ভবিষ্যতেও দেখা যাবে কি-না সে সন্দেহ পোষণ করি। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক চরম অস্বস্তিকর এবং উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, গত ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পত্র অফিসিয়ালী সকল সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য, ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ ও শিক্ষকদের মাঝে বিতরণ করেন। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মনে বিশ্ববিদ্যালয় সচল হচ্ছে এমন আশার সঞ্চার হয় এবং দিনটি সকলের নিকট একটি স্বস্তির দিন হয়ে ওঠে। কেননা মন্ত্রণালয়ের ঐ (অনুরোধ ও আহবানের) পত্রে এগারটি বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট, অর্ডিনেন্স, প্রবিধি ইত্যাদির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে মেনে চলতে বাধ্য বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা আসতে পারে না, এমন ধারণা হয়। ঐ একই দিনে অর্থাৎ ২৪.০৮.২০১৫ তারিখেই প্রচলিত রীতি অনুসারে বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ ও একাডেমিক কাউন্সিল সভা আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে পত্র মারফত সভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশাকে আরও দৃঢ় করে। পর্যায়ক্রমে একের পর এক দিন অতিবাহিত হয় এবং ২৯.০৮.২০১৫ তারিখ পর্যন্ত কোনও কর্মসূচি (সভাসমূহ হতে না দেয়া বা অংশগ্রহণ না করা) ঘোষিত না হওয়ায় নির্বিঘেœ সভাসমূহ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবেশ বজায় থাকে। উপরন্তু, সিন্ডিকেট সভাসহ একাডেমিক কাউন্সিল ও বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ এর কোন সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সদস্য বাধা দিতে পারে না বলেই সংশ্লিষ্ট কোন সদস্যের সামান্য প্রতিবন্ধকতার চিন্তা মাথায়ও আসেনি। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রণালয় বরাতে সেই অস্বাক্ষরিত প্রেসনোট কে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে মানলেন, মানতে বাধ্য করলেন, আবার তারাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এর স্বাক্ষরিত মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ের অনুরোধ/আহবানের পত্রকে অবজ্ঞা করে যাচ্ছেনÑ কেন? তা আমাদের বোধগম্য নয়।
আমরা শুনেছি এবং বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি যে, ৩০ আগস্ট নির্ধারিত সভার দিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭ টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ সেখানে গিয়ে প্রশাসন ভবনের ফটক জুড়ে ছাত্রদের বসে থাকতে দেখেন এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকসহ সেখানে উপস্থিত হন। কোনো শিক্ষক এসেছেন গেটে তালা লাগাতে এবং কোনো শিক্ষক এসেছেন তালা খুলতে এমন রসিকতা, হাসি/ ঠাট্টা হয়েছে উপস্থিত শিক্ষকদের মাঝে। আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৮ টার দিকে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর তার কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময় অতর্কিত প্রেক্ষাপট বদলে যায় এবং এক চরম নিন্দনীয় ঘটনা সংঘটিত হয়, যা দেশব্যাপী নিন্দিত ও আলোচিত হয় এবং এখনও হচ্ছে। এ ঘটনায় সকল বিবেকবান মানুষের সাথে আমরাও তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত দোষীদের যথাযথ বিচার দাবি করেছি এবং করে যাব।
৩০ আগস্ট সংঘটিত অনাকাংখিত ঘটনায় উপাচার্য মহোদয় প্রফেসর ড. ইয়াছমিন হক, প্রফেসর ড. মোঃ ইউনুছ ও জনাব মোঃ ফারুক উদ্দিন দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন এবং অপরদিকে ঐ শিক্ষকবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, উপাচার্য মহোদয় ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়ে তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে কোনটি সত্য, নাকি উভয়টিই সত্য তা আমরা জানিনা। তবে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দঃখজনক, শিষ্টাচার বহির্ভূত, বিব্রতকর এবং চরমভাবে নিন্দনীয়। আজ আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে গত ১৫/২০ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নিত কিছু সংখ্যক শিক্ষক তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ, রেষারেষী, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ইত্যাদিকে পূঁজি করে বিভিন্ন সময় ভিসি বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন এবং সেই আন্দেলনের পদ্ধতি হয় অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, ধ্বংসাত্মক এবং হিংসাত্ম¡ক। এই মুষ্টিমেয় শিক্ষকের প্রতিহিংসা থেকে তাদের নিজ মতাদর্শের কিংবা ভিন্ন মতাদর্শের কোনো ভিসি-ই রেহাই পাননি। এ ধরনের আন্দোলন জাতির কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলকে হেয় প্রতিপন্ন করে। এ রকম পরিস্থিতি যাতে বারবার ফিরে না আসে তার জন্য একটি পূর্ণ বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, গত ৩০ আগস্ট তারিখে সংঘটিত ঐ চরম নিন্দনীয় ঘটনার পর থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত/ প্রচারিত বিভিন্ন বৈপরীত্যমূলক (যেমন- বক্তা এক কিন্তু সম্পুর্ণ বিপরীত কথা ও দাবি এমন) বক্তব্যসমূহকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল জগতে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগ ও অনলাইন পত্র-পত্রিকায় পক্ষ ও প্রতিপক্ষ অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের উসকানীমূলক বক্তব্য/ মতামত প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে বা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান। যার ফলশ্রুতিতে গত ০৩/০৯/২০১৫ তারিখে সাধারণ ছাত্র/ ছাত্রীর ব্যানারে মূলত ৩-৪ টি বিভাগের স্বল্পসংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী সরাসরি ভিসি অপসারণের স্লোগান দিয়ে সমাবেশ করেছে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়কে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বলে পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি কোন কোন পত্রিকায় ঐ ছাত্র/ ছাত্রীদেরকে লেলিয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে এবং যা ছাত্র/ছাত্রীদের বৃহৎ অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে, একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির আশংকাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে কোন ফর্মেই ছাত্র/ছাত্রীদের সম্পৃক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং চলমান আন্দোলন ছাত্র/ছাত্রীদের কোন আন্দোলনও নয় বিধায় তাদের কোন অংশকে সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীর নামে চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা বা সম্পৃক্ত হতে দেয়া একেবারেই অনুচিত এবং বেআইনি বলে আমরা মনে করি। পত্রিকায় প্রকাশ যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের (প্রক্টর মহোদয়ের) অনুমতি না নিয়েই বর্ণিত স্বল্প সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী গত ০৩.০৯.২০১৫ তারিখে স্লোগানসহ র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরীয় বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপরšুÍ তাদের ঐ কর্মসূচি পালনের কারণে অন্যদের (যারা ক্ষুব্ধ) বিনা অনুমতিতে কর্মসূচি পালনার্থে অবস্থান নেয়ার এক খারাপ প্রিসিডেন্স তৈরী হয়েছে বা প্রক্টর বিতর্কিত হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং চলমান সেমিস্টার পরীক্ষা যথাসময়ে শেষ হবে কী-না? ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়ে হবে কী-না? বা আবার বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজটে পড়বে কী-না? এ ধরনের বহুবিধ সংশয় দেখা দিয়েছে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, সার্বিক আলোচনা ও পর্যালোচনা করে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই: (১) কোন অপরাধ সংঘটিত হলে প্রকৃত অপরাধীদের বিষয়েই বক্তব্য দেয়া কাম্য, ঢালাওভাবে কোন সংগঠনের উপর দোষ বা দায় চাপানো মোটেই কাক্সিক্ষত নয় এতে অপরাধীদের আড়াল হওয়ার সুযোগ থাকে, (২) যে কোন বক্তার বক্তব্যে অটল থাকাই উচিৎ, বিপরীত বক্তব্য প্রদান করলে কোন বক্তব্যটি সত্য তা উল্লেখপূর্বক দুঃখ প্রকাশ করে অপর বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিৎ, (৩) ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের দ্বারা বহুবার শিক্ষকরা মারাত্মকভাবে আহত এবং লাঞ্ছিত হয়েছেন; কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকায় শিক্ষকসহ শাবি-পরিবারের সকলের মাঝে একটা চাপা-আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি হতে উত্তোরণে সকলকে বিশেষ করে শিক্ষকবৃন্দকে একতাবদ্ধ হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এর কোন বিকল্প নেই, (৪) কর্মরত কর্মচারী-কর্মকর্তা, শিক্ষক কেউই যেন বঞ্চনার শিকার না হন, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের অনড় থাকা আবশ্যক, (৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন সমস্যায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা বা না-করাকে কেন্দ্র করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীনপ্রবণতা কোন মহলেই কাম্য নয় কারণ এতে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন দৃশ্যমান হয়, এবং সর্বোপরি (৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যেন কোনভাবেই ব্যাহত না হয় তার জন্য সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ ও আহবান জানানো হয়েছে যা আমাদের ঐতিহ্যগত অবস্থানের অনুকূলে বিধায় সে লক্ষ্যে আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছি এবং করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সঙ্কট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলে যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন এবং অবদান রাখবেন সেটাই প্রত্যাশিত; অন্যান্যবারের ন্যায় চলমান সেমিস্টার পরীক্ষাসহ আসন্ন ভর্তিপরীক্ষা যথাসময়ে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের ধ্বংসাত্মক, নেতিবাচক, অনাকাক্সিক্ষত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা ও কর্মরত সকলের ন্যায্যপ্রাপ্তির পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান ছিল, আছে এবং থাকবে। একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া, নীতিনির্ধারকদের অবদান রাখা এবং সচেতন সর্বমহলের সমর্থন ও সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
সবশেষে, শাবিপ্রবি’র বিরাজমান পরিস্থিতে, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক বৃন্দের অবস্থান কি? আমরা কি আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দের পক্ষে না-কী বিপক্ষে? আমরা কি ভিসি মহোদয়ের পক্ষে না-কী বিপক্ষে? আমরা বলতে চাই, আমরা উক্ত দুটি বিষয়ের কোনোটিরই পক্ষে বা বিপক্ষে নই। আমরা আমাদের এই প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে। আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম, ছাত্রছাত্রিদের সকল বিষয়, শিক্ষকদের প্রমোশন/আপগ্রেডেশন, নিয়মিতকরণ, সর্বোপরি আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম যে কোন পরিস্থিতিতে চালু রাখার পক্ষে। কেননা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সুনামবৃদ্ধি ও উন্নতিকল্পে এসব কার্যক্রম চালু রাখা অতীব জরুরী। এসব কারণে আমরা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী আমাদের এই প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অবস্থান নিবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
প্রফেসর ড. মো: সাজেদুল করিম
আহবায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয়মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Daily Manchitro Designed by dailysylhet.blogspot.com Copyright © 2014

Blogger দ্বারা পরিচালিত.