শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ::
সন্ধান মিলছে না মাদ্রাসায় পড়ুয়া হাফিজ আখলাক আহমদের। ৪ আগস্ট বালাগঞ্জের সোনাপুরে লজিং বাড়ীতে আসার পথে নিখোঁজ হন ওসমানীনগরের ওসমানপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের মৌলভী আব্দুল হকের পুত্র হাফিজ আখলাক আহমদ (২৪)। ছেলের অপেক্ষায় তার বৃদ্ধ মা মালিকা খাতুন বার-বার মুর্ছা যাচ্ছেন। শরীরে সেলাইন দিয়ে তার মাকে কোন রকম বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। পিতা মৌলভী আব্দুল হক ছেলের জন্য প্রাগল প্রায়। প্রতিদিন সকালে হলেই ছেলের সন্ধানে বেরিয়ে যান।
এ ব্যাপারে হাফিজ আখলাক আহমদের পিতা ৭ আগস্ট ওসমানীনগর থানায় একটি জিডি করেছেন, যার নং-২৯৪। নিখোঁজ আখলাক আহমদের পরিবার ও জিডি সুত্রে জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের সোনা পুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী আব্দুল করিমের বাড়ীতে হাফিজ আখলাক আহমদ বিগত প্রায় সাত-আট বছর যাবৎ লজিংয়ে থেকে লেখাপড়া করার পাশাপাশি বর্তমানে প্রবাসীর বাড়ীতে আত্মীয়ের মত বসবাস করে আসছিলেন।
৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আখলাক আহমদ তাজপুর কদম তলায় তার বড় ভাই আখতার আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বড় ভাইর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সোনাপুরে তার লজিং বাড়ীতে আসার জন্য রওয়ানা হন। তাজপুরে বড় ভাইর সাথে সাক্ষাৎ করার সময় হাফিজ আখলাক আহমদের সাথে ছিলেন বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের জহির উল্লার পুত্র সুলতান আহমদ ও ওসমানীনগরের দক্ষিন রাউৎ খাই গ্রামের ইব্রাহীম আলীর পুত্র জিয়াউল হক।
এই দিন বেলা একটার পর থেকে আখলাক আহমদের ব্যবহৃত মোবাইলের দুটি সিমই বন্ধ পাওয়া যায়। এই দিন তার লজিং বাড়ী সহ সকল আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নী। আখলাক আহমদের পিতা মৌলভী আব্দুল হক বলেন, আমার ছেলে যে বাড়ীতে লজিং থাকত এই বাড়ীর মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল করীমের বড় কন্যা মমতা বেগমকে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিবেন বলে সম্মত হয়েছিলেন।
এর পর থেকে প্রবাসী আব্দুল করীমের আত্মীয়-স্বজনরা আমার ছেলেকে হিংসার চোখে দেখত। হাফিজ আখলাক আহমদের পিতা মৌলভী আব্দুল হক কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কোন সহৃদয় ব্যক্তি তার ছেলের সন্ধান পেলে ০১৭৩৪-৫২৫৪৫৫/০১৭২১-৯১২০৬৮ এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন